Hot!

Other News

More news for your entertainment
Showing posts with label নির্বাচিত লেখা. Show all posts
Showing posts with label নির্বাচিত লেখা. Show all posts

জেনে নিন: জমি রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম-কানুন

জমি রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম-নীতি সম্পর্কে জ্ঞাত হবার পূর্বেই জেনে নিতে হবে জমি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা?

উত্তর হচ্ছে, প্রয়োজনীয়তা যতটুকু না রয়েছে তার চেয়ে আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অনেক বেশী। রেজিস্ট্রেশন আইন ২০০৪ (সংশোধিত) অনুযায়ী, সকল দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। ২০০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনের পর মৌখিক দান/বিক্রয় বৈধ নয়।


লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com |
লেখাটি সম্পর্কে যে কোন জিজ্ঞাসার জন্য এখানে ক্লিক করুন...

সুতরাং আইনের দিক থেকে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আর প্রয়োজনের দিক থেকে আইনকে প্রধান্য দিতে হবে আগে। জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন না হলে আইনের দিক থেকে কোন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থাকলে পরবর্তীতে বিরোধ এড়ানো যায়। আইন অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় দলিল অবশ্যই লিখিত এবং রেজিস্ট্রি হতে হবে।


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে লেখকের স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

দলিল রেজিস্ট্রির নিয়ম কি?

নিয়ম হচ্ছে, আপনি যখন একটি জমি ক্রয় করবেন তখন ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন (সংশোধিত ২০০৪) আইন অনুযায়ী আপনাকে উক্ত জমির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত ফরমে তথ্য ও দলিলাদি উল্লেখ পূর্বক নিবন্ধন করতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনাকে নির্ধারিত সরকারী ফি প্রদান করতে হবে। আপনি চাইলে দলিল লেখকের সহযোগীতাও নিতে পারেন।


উক্ত দলিলে জমির পরিচিতি, দাতা-গ্রহীতার বিবরণ এবং ছবি সংযুক্ত করতে হয়। দলিল দাতার নামে অবশ্যই নামজারী বা মিউটেশন করা থাকতে হবে (উত্তরাধিকার ছাড়া)। দলিলে বিগত ২৫ বছরের মালিকানা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সম্পত্তি প্রাপ্তির ধারাবাহিক ইতিহাস লিখতে হবে। জমির প্রকৃত মূল্য, চারদিকের সীমানা, নকশা তথা চৌহদ্দি দলিলে উল্লেখ করতে হবে। দাতা কর্তৃক বিক্রিত সম্পত্তি অন্য কারো কাছে বিক্রি করেনি এ্রই মর্মে একটি হলফনামা ও সংযুক্ত করতে হবে। দলিলে বিক্রিত জমির জরীপ খতিয়ান সমূহ যেমন CS, RS-এর মালিকানার ধারাবাহিক ইতিহাস উল্রেখ করতে হবে। প্রয়োজনে ভায়া দলিলেরবিবরণ উল্লেখ করতে হবে।

উল্লেখ যে, জমির বায়না দলিলও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়না দলিলের আইনগত মূল্য নেই। বায়না দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এবং উক্ত বায়না দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ হতে ১ বছরের মধ্যে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি তথা নিবন্ধন করতে হবে।
এছাড়া, হেবা বা দানকৃত সম্পত্তির দলিল, বন্ধককৃত জমির দলিল, বাটোয়ারা বা আপোষ বণ্টন নামা দলিলও রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।

ভায়া দলিল কি?




জমি সংক্রান্ত বিষয়াদির সাথে আমরা প্রায়শ “ভায়া দলিল” শব্দ যুগলের কথা শুনে থাকি। কিন্ত অনেকই জানিনা “ভায়া দলিল” কি এবং কাকে বলে?

সহজে উত্তর হচ্ছে, জমির মূল বা আদি দলিলকে ভায়া দলিল বলে। আর জমির মালিকানা নিরুপনের জন্য ভায়া দলিল একটি অপরিহার্য উপাদান।


লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com |
লেখাটি সম্পর্কে আপনার যে কোন জিজ্ঞাসার জন্য এখানে ক্লিক করুন...


দরুন, আপনি একখন্ড জমি আলম সাহেব থেকে ক্রয় করলেন, যার দলিল নং ২০০। আলম সাহেব উক্ত জমি ক্রয় করলেন সুফিয়া খাতুন থেকে, যার দলিল নং ১৩০। এখানে আপনার সৃজিত দলিল নং ২০০ এর ভায়া দলিল নং হচ্ছে ১৩০। অর্থাৎ ভায়া দলিল হচ্ছে মূল দলিল যা থেকে সৃষ্টি হয় পরের দলিল সমূহ।

আপনি যখন কোন জমি ক্রয় করবেন তখন অবশ্যই জমির বিক্রেতা থেকে ভায়া দলিল চেয়ে নিবেন। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি নির্দিষ্ট ফরমে সার্চ করে উক্ত দলিলের সঠিকতা যাচাই করে নিবেন। আর উক্ত ভায়া দলিল থেকে সৃষ্ট পরবর্তী প্রতিটি দলিলের দাগ নাম্বার ও জমির হিস্যা ঠিক আছে কিনা জেনে নিবেন। যদি সন্দেহ হয় তাহলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের সাথেও মিলিয়ে দেখতে পারেন।


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে লেখকের স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কেন?


লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com |
আপনার যে কোন আইনী জিজ্ঞাসার জন্য এখানে ক্লিক করুন...


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে লেখকের স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

দলিল রেজিস্ট্রির নিয়ম কি?

প্রশ্নটির উত্তর অতি ব্যাপক। সংক্ষেপে, সামাজিক মর্যাদা এবং আইনগত অধিকার রক্ষার জন্যই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা অতি জরুরি। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতীত আপনি আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করে। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতিত বিবাহ প্রমাণ করা কঠিন ফলে মেয়েদের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় সবচেয়ে বেশি। দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের অভিভাবকত্ব ইত্যাদি দাবির ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রিশন বা বিবাহের কাবিননামা আইনগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কাবিননামার গুরুত্ব ব্যাপক। কাবিননামায় বয়স উল্লেখ করতে হয় বিধায় বাল্য বিবাহ রোধও সম্ভব। এটি বিবাহিত ছেলে-মেয়ে উভয়ের ভবিষ্যত আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করে। বিবাহ সম্পর্কে উভয় পক্ষ থেকেই যে কোন সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তখন কাবিননামা প্রমাণ পত্র হিসেবে কাজ করে।



অন্যদিকে, আইনের দৃষ্টিতে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই সকল বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা আইনত আবশ্যক।



বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কী এবং কেন?

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে সরকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। সরকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের তথ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভূক্তি করতে হয়। তালিকাভূক্তি ফরমটিকে কাবিননামাও বলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধনী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত তথ্য প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।


উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধি বিধান নেই। তবে ২০১২ সালে প্রণীত “হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন” অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধনের বিধান থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এরূপ বিধান নেই। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে।


কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় :

২০০৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হলে ৩০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি করতে রেজিস্ট্রেশন সরকারি ফি দিতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর মোট পরিমাণ ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপর হবে না। এই ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তন হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।


আইন অনুযায়ী বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বা শর্ত যেমন, বর কনের বয়স, উভয়ের সম্মতি, দেনমোহর, তালাক প্রদানের ক্ষমতা ইত্যাদি পূরণ সাপেক্ষে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। খ্রিস্টান বিবাহের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ সম্পাদন করবেন তিনিই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর কাজী উভয়পক্ষকে রেজিস্ট্রেশন ফরম বা কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন।




বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সুফল-কুফল :
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলে আইনগত কিছু সুফল পাওয়া যায় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফলও রয়েছে অনেক, যেমন রেজিস্ট্রেশনের ফলে,


১) উভয় পক্ষ বিবাহ অস্বীকার করার আইনত সুযোগ থাকেনা এবং এর দ্বারা সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা আরোপিত হয়।
২) রেজিস্ট্রেশনের ফলে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ণয় সহজ হয়।
৩) স্ত্রী তার প্রাপ্ত দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় বা দাবি করতে পারে।
৪) সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ণয় করতে সহজ হয়।
৫) স্বামী দ্বিতীয় বিবাহের জন্য উদ্যোগী হলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
৬) রেজিস্ট্রেশনের ফলে বাল্য বিবাহ রোধ সম্ভব হয়।
৭) রেজিস্ট্রেশনের ফলে স্ত্রী ডিভোর্স দেয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত হতে পারে।



অন্যদিকে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বৈধতা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা যায় না। রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ই আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত বা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আবার, রেজিস্ট্রেশন না করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। মোট কথা, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একদিকে যেমন বাধ্যতামূলক অন্যদিকে এটি একটি সামাজিক এবং পারিবারিক প্রামাণ্য দলিল।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলার প্রতিকার



লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com | Facebook |


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।



যদি কেউ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তবে তার বিরুদ্ধে একই আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী আপনি অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।




মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি

১৭৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷


(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে৷

অর্থহীন



দীর্ঘপ্রায় ১ যুগ পরে আজ এক লৌহ-মানবীর সাথে দেখা। তার জীর্ণ-শীর্ণ মূখবয় দেখে সবকিছু যেন “অর্থহীন” মনে হলো। অধিকায় সেই মূখখানা এমন প্রকৃতির হয়েছে-চেনা বড় দায়। চোখ দুটো জীবিত, আমার দিকে ফ্যালফ্যল করে তাকিয়ে আছে বিরামহীন-প্রশ্নজর্জরিত।



খানিক পরে জীর্ণ মূখেই অষ্পষ্ট স্বরে বলল; “কে-ম-ন.....আছ?”
উত্তর দিলাম: “সাধরণ”।



পাশেই লুবনা আপা। জীর্ণ তার মূখখানাও, যেন ভাবনার অন্ত নেই। দুটো বাচ্চা আইপ্যাড নিয়ে ব্যস্ত।
কত পরিবর্তন??????????
লুবনা আপা????? এখন দু’বাচ্চার গর্বিত মা!!!!!!!!!!!


বাবু ভাইয়া স্পেনে আজ ১১ বছর হলো। আমার সাথে যোগাযোগ আছে। নানান প্রয়োজনে আমি এখনো তার সঙ্গী। সকালে ফেইসবুকে ম্যাসেজ দিল ল্যাব এইডে যাবি.....দেখে আসবি।



কি মহানুভবতা বাবু ভাইয়ার!!!!! অবাক হইনা। কারণ তিনি সর্বদা যেমন ছিলেন এখনো তেমনি আছেন, বদলাননি। শুধু বদলেছে, লুবনা আপা আর তার লৌহ-মানবী “মা” যিনি ল্যাব এইডের বিছানায় শুয়ে পরপারের কথা হয়তো ভাবছেন..........হয়তো বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন.....।


একদা আমি বাবু ভাইয়ার আর লুবনা আপার পিয়ন ছিলাম। পত্র-উপহার প্রায় সবকিছুরই পিয়ন। লুবনার আপার মা’কে আমি চাচী ডাকতাম। এক পর্যায়ে লুবনা আপাদের বাসায় আমার আসা-যা্ওয়ার উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন চাচী। চাচী বলতেন, সব নষ্টের মূল নাকি আমি। একটা বেকার (বাবু) ছেলের সাথে তার মেয়ের সকল অঘটনের দায় নাকি আমারই নিতে হবে!!!!!! সর্বশেষ দু’চার জন আত্মীয় স্বজনের সামনে আমাকে ১০ বার কানে ধরিয়ে ঐ বাসা থেকে চির বিদায় দিলেন সেই সময়কার লৌ-মানবী যিনি আজকে ফ্যালফ্যাল করে আমার পাণে চেয়ে আছেন... কিন্তু কিছুই বলতে পারছেন না।


বাবু ভাইয়ার অপরাধ....."তিনি বেকার...মাস্টার্স করেছে তো কি হয়েছে? চাকরী নেই...গাড়ী নেই...বাড়ী নেই.......আর অপবাদ ছিল....."লুবনা আপাকে বাবু ভাইয়া ব্ল্যাকমেইল করছে শুধুমাত্র তাদের অগাত সম্পত্তির লোভে"।.....কিন্তু আমি জানি, কতটা ভালবাসতেন বাবু ভাইয়া লুবনা আপকে...আর কতটা ভালবাসতেন লুবনা আপা বাবু ভাইয়াকে.....এমন গল্প কোন দিন নাট্যরূপে হবেনা......কোনদিন দ্বিতীয় উদাহরণ সৃষ্টি হবেনা।


আমার কান ধরার দিনই ছিল তাদের ভালবাসার শেষ দিন। সেদিন বাবু ভাইয়া তার প্রাণের প্রিয়তমাকে তুলে দিলেন আজকের বিছানায় শয্যাশায়ী লৌহ-মানবীর হাতে। সেটাই শেষ বিদায়......সেটাই শেষ।


ঐদিন, ২/৪ লোকজন ছিল...এরমধ্যে বাবু ভাইয়ার বড় ভাই রাজা ভাই, আমি, লুবনা আপার এক মেজর মামা এবং একজন ইমাম। লুবনা আপার মা দরবারে একহস্তে পবিত্র কোরআন শরিফ অন্যহস্তে বিষের কৌটা নিয়ে হাজির হলেন। শর্ত একটাই, বাবু ভাইয়ার সাথে লুবনা আপার এখনি বিয়ে হবে, তবে লুবনা আপাকে যেতে হবে তার লাশের উপর দিয়ে।







বাবু ভাইয়া আর সহ্য করতে পারেননি। পানি শূন্য রক্তচোখে নিজেকে সামলে নিলেন....আপাকে বললেন... “যে মা তোমাকে গর্ভে ধারন করেছে তাকে তুমি অপমান-অবিশ্বাস করতে পারোনা, তুমি তার.....”


কিশোর বয়সে গোল্লাছুট মাঝে যার সাথে পথচলা-হাত ধরা, স্বপ্ন দেখা...সেই স্বপ্নের শেষ বিদায়, চলে আসা। তারপর বাবু ভাইয়া স্পেন চলে গেলেন। শুনেছি, লুবনা আপার মা’ নাকি এক বিরাট-আচ্ছা সম্পদশালীর নিকট লুবনা আপাকে পাত্রস্থ করেছেন। আর শুনেছি, লুবনা আপার একমাত্র ছোট ভাই রাজিব নাকি অষ্ট্রেলিয়া আছেন, এক বিদেশিনীকে বিয়ে করে ওখানেই মগ্ন।



এখন, বিছানার পাশে লুবনা আপা এবং তার দু’বাচ্চা।

খানিক পরেই এক বৃদ্ধের আগমন ঘটল। বাচ্চা দুটো উঠে গিয়ে “আব্বু আব্বু” বলে কিসের যেন একটা বায়না ধরল।



এতক্ষণে বুঝলাম, সেই লুবনা আপা কেন এতো বুড়িয়ে গেলেন????? বয়সে প্রায় ২০ বছরের বড় এই লোকটির চেহারায় রক্তশূন্যতা প্রকট। যেকোন মহূর্তে তাকেও শয্যাশায়ী করতে হতে পারে।

আমার কাছে সবকিছু “অর্থহীন” মনে হলো..........................

মানুষ নিজের সুখের-সন্তানের সুখের জন্য কত কিছুই না করে??? লুবনা আপার লৌ-মানবী “মা” তার প্রকৃষ্ট উদাহরন। নিজ মেয়ের সুখের জন্য তিনি যা করেছেন তা সমাজে বিরল নয়।


উঠে দাঁড়ালাম প্রস্থানের আশায়।
দরজা পর্যন্ত এলেন লুবনা আপা.....নিচু গলায়..লুকানো চোখে....বললেন....“কেমন আছে সে.....??”


উত্তর দিলাম, “অতি সাধারণ”।

(বাবু ভাইয়া আজ অবদি বিয়ে করেননি, নিজের কামানে টাকা বৃদ্ধাশ্রম আর এতিম খানায় পাঠিয়ে দেন, স্পেনে তার বিশাল অবস্থা, দুটো রেষ্টুরেন্টসহ নানান ব্যবসা....কিন্তু অতি সাধারণ.............এবং অর্থহীন নন।)

নীলা'র "নয়ন"



২০০৪।  সবে কিশোর থেকে যুবকের প্রথম প্রহর চলছে, ভাবটা রোমান্টিকতার অপূর্ব মিশ্রন এবং বৈচিত্র্যময়। সে'সময়ই নীলা'র দেখা!

পাশাপাশি বসে যাচ্ছিলাম। আমার গন্তব্য গাজীপুর, তার'টা জানা নেই। 
বাক্য বিনিময়ে সাহসী ছিলাম না, কারণ, অাড় চোখে যতবার তার পাণে চেয়েছি ততবারই তার অগ্নি "নয়নে" দগ্ধ হয়ে লজ্জিত অথবা ভীতু হয়েছি। এভাবে আধঘন্টা, তারপর সে উধাও, এবং আমিও!

"আমার ঠিকানা আগারগাঁঁওয়ের পঙ্গু কারখানায়, নীলার'টা জানা নেই। সেদিন নীলা ছিলেন আমার পাশের সীটের সহযাত্রী। 

ঐ দিনের পর প্রায় বছর পরে, এক গ্রীষ্মে ল্যাব এইডে চাদর মোড়া নীলাকে দেখে চমকে উঠি, সেই আড় চোখাচোখি, কিন্তু লজ্জিত বা ভীতু হবার কোন লক্ষণ আমার মাঝে সেদিন ছিল না। কারণ,  তার "নয়ন যুগল" অগ্নি মূর্তি অবয়বে নয়, অনেকটাই যেন নিরুদ্দেশ-হতাশ।

অভয়ে কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, "আপনি সেদিন আমার সাথেই ছিলেন..মনে পড়ে???!!!

নীলা-অপলকে তাকালেন, অস্পষ্ট  ধ্বনিতে উত্তর দিলেন "হ্যাঁ"। 

এরপর জানতে  যা চাইলাম-তার উত্তরে নীলা চাদরটি সরিয়ে দিলেন,
"এক পলক" দেখেছি শুধু,  বাকী আর পারিনি।

"তার বা' হাতটি নেই"। 

এদিনই প্রথম জানতে পারি তার নাম "নীলা"

এই  নীলাকে নিয়ে আমার একটি লেখা "নীলা'র নয়ন" একটি দৈনিকে, একটি সাপ্তাহিকে প্রকাশিত হয়েছে এবং শ্রেষ্ঠ গল্পের পুরস্কারও জিতেছে।


গত কয়েকদিন যাবত নীলা'কে বেশ মনে পড়ছে, লঞ্চ ডুবি, রাস্তায় রাস্তায় এক্সিডেন্ট, গাড়ী পুড়ে যাওয়া, এসবের আবার সেলফি, লাইভ ভিডিও, ইত্যাদি, কত কি!!!???

কিন্তু নীলার সময় এসব ছিল না, তাই হয়তো নীলাকে নিয়ে এত দু:খবোধও কারোর ছিল না। 

আজ যা ঘটছে-প্রযুক্তির বদেৌলতে তা জানতে পারছে সকলে। 
কিন্তু নীলার জীবনেও এমন কিছু ঘটে গেল জানতে পারেনি কেউ।
তবে শেষটা হচ্ছে, "সেদিন যা হয়েছে আর এখন যা হচ্ছে, এসব সত্যিকারে কাম্য নয়"
কেন বারবার এসব হচ্ছে এবং হবে? 
লঞ্চে কেন অতিরিক্ত যাত্রী উঠবে? ফিটনেসহীন গাড়ী কেন রাস্তায় থাকবে? কেন প্রশিক্ষণ ছাড়া চালক গাড়ী চালাবে? আর কত নীলা, আর কত সেলফি?



সোমবার সকালে মাদারীপুর শিবচরের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ভ্যানগাড়ি করে কাওড়াকান্দি লঞ্চঘাটে এসেছিলেন তিন বোন। পথিমধ্যে তারা একটি সেলফি তোলেন। পরে তাদেরই একজন সোমবার সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে হাস্যোজ্জ্বল তিন বোনের একটি ছবি আপলোড করেন। ছবিটির ক্যাপশন ছিল ‘অন দ্য ওয়ে সিস্টার জার্নি’। তাদের আনন্দযাত্রাকে বিষাদে ডুবিয়ে এ সেলফিই হয়ে থাকলো তাদের জীবনের শেষ স্মৃতি, যেটা পাওয়া গেছে মাওয়ার লঞ্চ দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ জান্নাতুন নাঈম লাকীর ফেসবুক পেজে।

আসলেও তিন বোনের এ যাত্রা ছিল অন্যরকম! উদ্দেশ্যটাই যেন তিন বোনের হারিয়ে যাওয়া। কে জানতো প্রমত্তা পদ্মায় মরণেও তিন বোন একই সঙ্গে যাত্রা করবে! তখনও তারা জানতেন না তাদের আর ফেরা হবে না ঢাকায়, ফেরা হবে না প্রিয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে, পাওয়া হবে না প্রিয় বন্ধুদের সান্নিধ্য। ২৬শে আগস্ট জন্মদিন ছিল নূসরাত জাহান হীরার। জয়নুল হক শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তার সহপাঠীদের কথা দিয়েছিলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে যথাসময়ে ফিরে আসবেন তাদের মাঝে। বড় হওয়ার পরে সচরাচর জন্মদিন পালন হয়নি তার।

জমির খতিয়ানের ভুল সংশোধন করবেন কিভাবে?

লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com | Facebook |


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।


দরুন, আপনি জমির মূল মালিক এবং দখলদার। কিন্তু ভূমি খতিয়ানে আপানার মালিকীয় এবং দখলীয় জমির

মালিকানা লিপিবদ্ধ হয়েছে অন্যের নামে। অথবা খতিয়ানে রয়েছে করণিক ভুল, তখন আপনি কি করবেন?

উত্তর: আপনি যদি সত্যিকারে জমির মালিল এবং দখলকার হন তবে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে উপজেলা ভূমি অফিসে। সেখানে নির্ধারিত ফরমে ৫ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করে ভুল সংশোধেনের জন্য আবেদন করতে হবে।


আপনার আবেদন প্রাপ্তির পর উপজেলা ভুুমি অফিস দখল এবং রেকর্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য আপনার এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আবেদনটি প্রেরণ করবে, তাই উপজেলা ভুমি অফিসে আবেদন দাখিলের সময় ফটোকপি সংগ্রহে রেখে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন।

ইউনিয়ন ভূমি অফিসে থেকে প্রতিবেদন পাঠানোর পর যার নামে খতিয়ানে ভুল নাম এসেছে বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়। তারপর একটি নির্ধারিত তারিথে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ ও দাখিলিয় গজপত্রাদি বিবেচনায় কোন আপত্তি না থাকলে খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধনের আদেশ দেয়া হয়।


সংশোধিত আদেশ অনুসারে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সংশোধিত খতিয়ান প্রস্তুত করে পেশ করেন এবং কানুনগো প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংশোধন করেন।


সংশোধনের পুরো পক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারনত সময় লাগে ৩০-৩৫ দিন। সরকারিভাবে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে ৫/- টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হয়।



আবেদনের সাথে যেসকল কাগজপত্র জাম দিতে হবে:

১। সর্বশেষ নামজারি, সিএস, আর.এস, এসএ, বিএস, খতিয়ানের সত্যায়িত ফটোকপি/ সার্টিফাইড কপি
২। সংশ্লিষ্ট মৌজার এসএ ও বিএস মৌজা ম্যাপ
৩। ওয়ারিশ সনদপত্র ((প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) [অনধিক ০৩ মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত]
৪। মূল দলিলের ফটোকপি/ সার্টিফাইড কপি( প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৫। সর্বশেষ জরিপের পর থেকে ভায়া/পিট দলিল(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৬। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা পত্র
৭। আদালতের রায়/আদেশ/ডিক্রির সার্টিফাইড কপি
৮। আদালতের রায়/আদেশ/ডিক্রি থাকলে আরজির সার্টিফাইড কপি
৯। বিএস জরিপের মাঠপর্চা, ডিপি খতিয়ান ইত্যাদি

জেনে নিন: ডিভোর্স-এর নিয়ম কানুন



প্রথমেই তালাক সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনাটি শুধরে নিন। মূখে মূখে তিন বার "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করলে বা একসাথে "বায়েন তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করলে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ সাথে সাথে কার্যকরী হয় না। এমনকি, মূখে উচ্চারণ ব্যতিত লিখিতভাবে তালাক দিলেও তা সাথে সাথে কার্যকরী হবে না।


১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টেশন আইন অনুযায়ী এখতিয়াভূক্ত বা সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্টার বা কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের


লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com |
আপনার যে কোন আইনী জিজ্ঞাসার জন্য এখানে ক্লিক করুন...


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে লেখকের স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

নোটিশ স্ত্রী'কে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পৌরসভা চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে।


মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন পূর্ণ বয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিস্কের স্বামী যে কোন সময় কোনরূপ কারণ ব্যতিরেকেই তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন। তালাকের ক্ষেত্রে স্বামীর ক্ষমতা একচ্ছত্র, কিন্তু এজন্য আইনের বিধান মেনেই তা করতে হবে। বিধান না মানা শস্তিযোগ্য অপরাধ।


স্বামী কর্তৃক স্ত্রী কে তালাক দেবার বিষয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারায় বলা হয়ে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে (স্থানীয় ইউনিয়ন/পৌর চেয়ারম্যান/প্রশাসক) লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।


একই আইনের ৭ (২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি নোটিশ প্রদানের এই বিধান লংঘন করেন তবে তিনি এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হবেন।

৭ (৪) ধারা অনুযায়ী, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


৭ (৩) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না। কিন্তু, তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকে, তাহলে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী গর্ভাবস্থা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।


উল্লেখ্য যে, মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ -এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে ৭ (২) ধারা অনুযায়ী স্বামী শাস্তি পাবে ঠিকই, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। উক্ত তালাক কার্যকর হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ প্রধান না করলে তালাক হবে না এই বিধান উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সীদ্ধান্ত রয়েছে। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছা:হেলেনা বেগম ও অন্যান্য।


অন্যদিকে, সালিশী পরিষদ কতৃর্ক যদি সমঝোতা না হয় এবং নোটিশ দেবার ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী যদি নোটিশ প্রত্যাহার না করে, তবে ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকরী হবে। এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রী কে ভরণপোষণও দিতে বাধ্য।



মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইন ১৯৭৪ এর ৬ ধারা অনুসারে বিয়ের মতো তালাকও রেজিস্ট্রি করতে হয়। এখতিয়ারভূক্ত নিকাহ নিবন্ধক অর্থাৎ কাজী নির্ধারিত ফি নিয়ে তালাক রেজিস্ট্রি করবেন এবং ফি ব্যতিত রেজিস্ট্রির প্রত্যয়ন কপি প্রদান করবেন।



লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

স্ত্রী কখন ডিভোর্স চাইতে পারে?


স্ত্রী কখন ডিভোর্স চাইতে পারে?
লেখক: এডভোকেট জয়নাল আবেদীন চৌধুরী (রিগ্যান)
01711 970 318 | advocateregan@gmail.com | www.advocateregan.com



প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, স্ত্রী ডিভোর্স দিতে পারে কি?
প্রথম উত্তরটি হচ্ছে, "তালকের" (ডিভোর্স) ক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী'র ক্ষমতা এক নয়। স্বামী যথন-তখন কোনরূপ কারণ ছাড়াই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে, কিন্তু মুসলিম আইনে স্ত্রী'র ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা সীমিত। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামীর একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকেলেও স্বামীকে কিছু আইন মানতে হয় (
বিস্তারিত পড়ুন)।
দ্বিতীয় উত্তরটি হচ্ছে, স্ত্রী ও "তালাক" দিতে পারে, তবে নিম্মোক্ত পদ্ধতিতে, ক্ষমতাবলে এবং কারণে।


ক্ষমতাবলে তালাক (তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে)
আগেই বলা হয়েছে মুসলিম আইনে তালাকের বিষয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত। স্ত্রী'কে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হলে তবেই একজন স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। স্ত্রীকে এরূপ ক্ষমতা অর্পনকে "তালাক-ই-তৌফিজ" বলে।
তালাক-ই-তৌফিজ স্ত্রীর একক ক্ষমতা নয়।
নিকাহমার ১৮ নং ঘরে "স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করছে কি না? করে থাকলে কী শর্তে?" এই প্রশ্নটি থাকে। এখানে স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেয়, তবেই স্ত্রীও স্বামীর মতো তালাক দিতে পারে।

সেক্ষেত্রে স্ত্রীকেও স্বামীর মতো ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টেশন আইন ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবাবিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখতিয়াভূক্ত বা সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্টার বা কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্বামী'কে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পৌরসভা চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে।



খুলার মাধ্যমে তালাক/বিচ্ছেদ
স্ত্রী আরেকটি উপায়ে স্বামীকে তালাক/বিচ্ছেদ দিতে পারে। এটি হচ্ছে খুলা, যা চুক্তিভিত্তিক বিচ্ছেদ হিসেবেও পরিচি। অর্থাৎ যখন কোন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না বা স্ত্রী স্বামীপ উপর বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন তখন স্ত্রী চাইলে প্রতিাদনের (অর্থ বা সম্পত্তি) বিনিময়ে স্বামীকে বিচ্ছেদ ঘটাতে রাজী করাতে পারে। এই ধরনে বিচ্ছেদকে খুলা বলে। এক্ষেত্রেও স্ত্রী'কে চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে৷ খুলা তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের দেনমোহরের বিনিময়ে স্বামীকে রাজী করানোর বিষয়টি বেশী প্রাধন্য পায়। স্ত্রীর এরূপ বিচ্ছেদের প্রস্তাবটি স্বামী কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে স্ত্রী আদালাতের শরনাপন্ন হতে পারেন।


মোবারত এর মাধ্যমে তালাক/বিচ্ছেদ
মোবারাতও খুলার মত এক ধরণের চুক্তি ভিত্তিক বিবাহ বিচ্ছেদ। যখন স্বামী এবং স্ত্রী একে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন তখন তারা মোবারতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। খুলা এবং মোবারত উভয়ই চুক্তিভিত্তিক বিচ্ছেদ হলেও উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। খুলা হচ্ছে এককভাবে বিরূপ মনোভাবসম্পন্ন স্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিদানে বিনিময়ে বিচ্ছেদ ঘটানো। আর মোবারত হচ্ছে, উভয়ে যখন উভয়ের প্রতি বিরূপ মনোভাব সম্পন্ন হয়, তখন উভয়ের সম্মতিতে বিচ্ছেদ। মোবারতের ক্ষেত্রেও চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে যিনি বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিবেন নোটিশ পাঠানোর দায়িত্ব তার।


আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যতিত নিম্মোক্ত ৯টি ক্ষেত্রের যে কোন একটি বা একাধিক কারণে একজন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতের শরনাপন্ন হতে পারেন। ১৯৩৯ সালের বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে স্ত্রীকে এরূপ ক্ষমতা বা অধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে,

(১) স্বামী ৪ বছরের অধিক সময় নিরুদ্দেশ থাকলে;
(২) দুই বছর যাবত স্ত্রীর খোরপোষ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে;
(৩) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙঘন করে অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
(৪) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে;
(৫) কোনো যুক্তি-সঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তাঁর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
(৬) স্বামী বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করার সময় পর্যন্ত বজায় থাকলে;
(৭) স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্বক যৌনব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
(৮) নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্ব লাভের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হবার পর স্ত্রীর বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এরকম মামলা দায়ের করা যাবে না)
(৯) নিম্নলিখিত যে কোনো অর্থে স্ত্রীর সাথে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে:
(ক) যদি স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা;
(খ) কুখ্যাত মহিলাদের (women of ill reputation) সঙ্গে স্বামীর মেলামেশা করা কিংবা নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপন করা।
(গ) নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করা, কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির আইনসম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া;
(ঙ) স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া;
(চ ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে পবিত্র কোরানের নির্দেশে তাদের সাথে সমান ব্যবহার না করা;


লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।
তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

"রানার"-এবং হারিকেন....


আজ নিজ মনে কবি "সুকান্ত ভট্টাচার্য"কে কখনো শ্রদ্ধা কখনো ধিক্কার দিতে লাগলাম। লালমাটিয়া থেকে ২৫ টাকা রিক্সাযোগে মোহাম্মদপুর ডাকঘরে যখন পৌঁছলাম তখন ২টা বাজেনি। গালভর্তি পানরস নিয়ে এক ভীনগ্রহবাসী থুতু ছিটিয়ে ছিটিয়ে জানিয়ে দিল "টাইম শেষ, কাইল আহেন"।

.....এই হইল বাংলার ডাকঘর তথা পোষ্ট অফিসগুলার অবস্থা। হারিকেন দিয়ে খুঁজে খুঁজে বের করতে হয় টাইম-টেবিলের মধ্যে....না হইলে খালিহাতে ফিরতি ভাড়াও ২৫ টাকা গুণতে হবে....

.

তো...কবি "সুকান্ত ভট্টাচার্য" ডাকঘর ওয়লাদের এমন বে-রস দেখে কি তাঁর "রানার" কবিতাটি তুলে নিতেন?? আমি হলে তুলে নিতাম...

.

..... তবে, সুকান্ত বাবুর আত্মা একটা কর্ম করতে পারে; বেগম তারানা হালিমকে (মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী) ফোন করে আমার ক্ষোভের কথাটি জানিয়ে দিতে পারে।